Glycerin for skin & hair care in Bengali – ত্বক ও চুলের যত্নের জন্য গ্লিসারিন

সাধারণত শীতকালে সবাই গ্লিসারিন ব্যবহার করে। শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডা ও শুকনো আবহাওয়ার জন্য সত্যিই কোনো তরলপদার্থ ত্বকে না প্রয়োগ করে টিকে থাকা মুশকিল। যেহেতু এটার ত্বককে ঠান্ডা করার স্বভাব আছে তাই এটা একটা ঠান্ডা আরাম অনুভূতি দেবে।

ত্বকের সাথে সাথে আমরা চুলের পরিচর্যার জন্য গ্লিসারিনের ব্যবহার করতে পারি। আপনি কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিনের সাথে অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপকরণ মিশিয়ে একটা পেস্ট বানাতে পারেন এবং তা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।

এখানে আমরা গ্লিসারিনের কিছু সৌন্দর্য প্রদানের উপকারিতা ব্যক্ত করলাম।

গ্লিসারিনের কিছু বৈশিষ্ট্য (Some characters of Glycerin)

  • পিচ্ছিলতা – এটি সাধারণ তাপমাত্রাতেও পিচ্ছিল। এটা গাঢ় হয় ও আপনাকে আস্তেআস্তে তা ঢালতে হবে।
  • জৈব সামঞ্জস্যতা – শরীরের জীবন্ত কলাগুলি গ্লিসারিনের প্রয়োগে ভালো কাজ করে। শরীরের অপূর্ণতা দূর করতে এটি ব্যবহার করা যায়।
  • জলে দ্রবিবুত হয় – এটি জলে ডুবে যায় আর তাইজন্য ওষুধপত্রে এটি ব্যবহার করা হয়।
  • জলগ্রাহী – এটি তরল পদার্থ শুষে নেয়, তাই শরীরে ভেজাভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • নির্বিষ – আপনি এটি শরীরের ভিতরে ও বাইরে উভয়ই ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি স্পর্শকাতর ত্বকেও এরই ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের সৌন্দর্যতার জন্য গ্লিসারিনের উপকারিতা (Beauty benefits of the Glycerin for skin)

ত্বক মসৃণতা (Skin smoothening)

ত্বককে সিক্ত রাখার পাশাপাশি এটি মসৃন ও সৌন্দর্যতা প্রদান করে। যদি আপনার ত্বকে কোনো রুক্ষশুখ দাগ থাকে, গ্লিসারিন সত্যি তা উপকারে লাগবে। আপনি হাতের কনুই বা পায়ের গোড়ালিতে প্রয়োগ করতে পারেন ওই অংশের খসখসানি ভাব কমানোর জন্য।

কোষের পরিপূর্ণতা (Maturation of cell)

শরীরে কোষের পরিপূর্ণতার জন্য গ্লিসারিনের যথেষ্ট প্রভাব আছে। আপনি তৈলাক্ত ত্বকের উপরে যদি এটি ব্যবহার করেন তাহলে ভিন্ন ত্বকের সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাবেন। গ্লিসারিন ব্যবহারে কালোদাগ, ব্রণ, ইত্যাদি থেকে আপনি দূরে থাকবেন।

ত্বকের সমস্যার চিকিৎসা (Treatment of skin problems)

যাদের ত্বকে তেলভাব বেশি আছে তারা গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন। আপনার যদি ত্বকে জীবাণু সংক্রমণ হয়, গ্লিসারিন খুবই উপকারক সেক্ষেত্রে।

সমতল ত্বক (Even skin structure)

এরকম কাউকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন যার মসৃন ও সমতল ত্বক আছে। গ্লিসারিন যার ভিতর জলাভাব ও সিক্ততা আছে তা সমতল ত্বক পেতে সাহায্য করে। একটি স্কিনটোন হিসাবে যতটা জল প্রয়োজন তা গ্লিসারিনের মধ্যে আছে তাই জন্য আপনার ত্বক সুন্দর হয়ে উঠবে তবে কোনোরকম স্নিগ্ধতা ছাড়াই। গ্লিসারিন ত্বককে কোনোরকম ক্ষতিকারক আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

ত্বকের মৃদুতা (Gentleness over skin)

বাজারে যে সমস্ত রাসায়নিক প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায় তা খুবই ক্ষতিকারক। কিন্তু গ্লিসারিন আপনার ত্বকের জন্য খুবই মৃদু এবং ১০০% নিরাপদ। তাই লোশন, সাবান, ক্রিম ইত্যাদিতে গ্লিসারিন মেশানো হয়। যেহেতু তৈলাক্ত ত্বকে সব জিনিস প্রয়োগ করা যায় না তাই যাদের তৈলাক্তত্বক তাদের এবিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। গ্লিসারিন তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই মৃদু এবং তা কোনোরকম ক্ষতি করেনা। এর প্বার্শপ্রতিক্রিয়া কম।

মুখে জলভাব বজায় রাখা (Retention of water in skin)

আদ্রতার সাথেসাথে মুখে পর্যাপ্ত পরিমান জল থাকা দরকার। গ্লিসারিন জলভাব থাকার জন্য এটি ত্বকে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি বাতাস থেকে জল নিয়ে তা ত্বকে চালান করে। তাই আপনার ত্বক মৃদু থাকবে এবং পুষ্ট থাকবে।

Subscribe to Blog via Email

ত্বকের আদ্রতা (Moisturizer for the skin)

গ্লিসারিন এবং মধু সমপরিমানে মিশিয়ে নিন। এটি যেকনো শুস্ক ত্বকে, হাতে, পায়ে প্রয়োগ করুন। ২০ মিনিট তা লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। গ্লিসারিন ত্বকের শুস্কতা দূর করে আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ছাল ওঠার জন্য গ্লিসারিন (Glycerin skin Exfoliate)

১ টেবিলচামচ গ্লিসারিন, ২ টেবিলচামচ মধু, ২ টেবিলচামচ মধু। এই তিনটি উপাদান মিশিয়ে নিন। এখন তাতে ওটমিল যোগ করে মিশ্রণটি ঘন করুন। বেশিমাত্রায় গ্লিসারিন যোগ করবেননা তাহলে মুখ থেকে তা জল বার করে দিতে পারে। এই মিশ্রণটি মুখে লাগালে ত্বকের ছিদ্রতা ও দাগছোপ নিরাময় করে। এই প্যাকটি মুখে উজ্জ্বলতা ও শুভ্রতা বাড়ায়।

ত্বকের ঔজ্বল্যতা (Skin lightening)

ত্বকের মসৃণতা পাওয়ার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। এটি ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্রতা ও তেলভাব দূর করে। আপনি উপলব্ধি করবেন যে আপনার ত্বক আগের থেকে অনেক মসৃন ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বেশিরভাব টোনার ও ময়েশ্চারাইজারতে গ্লিসারিন ব্যবহার হয়।

বার্ধক্য প্রতিরোধক (Anti aging aid)

আপনার ত্বককে মসৃন ও দাগছোপ মুক্ত রাখতে এটি সাহায্য করে। প্রতিটি মানুষের ত্বকের জন্য বার্ধক্য প্রতিরোধক আবশ্যক। ত্বকের ফাটা জায়গায় এই তরল পদার্থটি প্রবেশ করে কুঁচকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। গ্লিসারিন ব্যবহার করলে আপনাকে অনেক কমবয়সী লাগবে ও ত্বক মসৃন হবে। সব বার্ধক্য প্রতিরোধক ক্রিমে অন্যতম উপাদান হিসাবে গ্লিসারিন থাকে।

টোনার (Skin toner)

ত্বক পরিষ্কার করার জন্য গ্লিসারিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বককে আরো বেশি উজ্জ্বল ও সমান করতে সাহায্য করে। ত্বক থেকে কালোদাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটির সাথে সামান্য পাতিলেবুররস মিশিয়ে নিলে ব্লিচিংয়ের কাজ করে।

চুলের উপকারে গ্লিসারিন (Hair and benefits of glycerin)

আদ্রতা বজায় রাখতে (Retention of moisture)

আপনার ত্বকের মতো চুলের আদ্রতা প্রয়োজন। মাথারখুলিটির আদ্রতাভাব বজায় রেখে গ্লিসারিন ত্বকের গুন্ বজায় রাখে।

দীর্ঘতা বজায় রাখা (Maintenance of length)

কেবলমাত্র পুষ্ট চুল লম্বায় বাড়তে পারে। যেহেতু গ্লিসারিন ত্বককে আদ্র করে তোলে, চুলের শুস্কতা দূর করতে এটি কাজে দেয়। চুলের বৃদ্ধি সঠিক হবে ও লম্বাচুল বজায় রাখতে সহজ করবে।

চুলকানি নিরাময় (Eradicating)

শীতকালে ত্বক শুস্ক হয়ে যায়। এমনকি মাথার চামড়াও শুকিয়ে যায়।এরজন্য চুলকানি শুরু হয়। কিন্তু আপনি যদি মাথায় নিয়মিত গ্লিসারিন প্রয়োগ করেন তো চুলকানিমুক্ত মাথার খুলি পেতে সাহায্য করবে।

খুশকি প্রতিরোধ (Stopping dandruff)

আজকাল, অনেকের মধ্যে খুশকি একটি বড়ো সমস্যা। আপনি শীতকালে যদি নিয়মিত মাথায় গ্লিসারিন লাগান তাহলে খুশকি নিরাময় করা সম্ভব। গ্লিসারিন ত্বককে এক শীতলতা প্রদান করে।

চুলে ছেটানো (Hair spray)

সমপরিমাণ জল ও গ্লিসারিন নিন। একটা স্প্রেবোতলে সেটি নিয়ে কোঁকড়ানো চুলে স্প্রে করে ছেটান। চুলের আদর্শ কন্ডিশনার হিসাবে এটি কাজে দেয়।

উস্কখুস্ক চুলের যত্ন (Frizzy hair care)

আমরা অনেকেই উস্কখুস্ক চুল নিয়ে চিন্তিত থাকি। উস্কখুস্ক চুল, চুল ঝরে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এটি মূলত চুলে জল কম থাকার জন্য হয়। আপনি যদি চুলে গ্লিসারিন প্রয়োগ করেন তাহলে উস্কখুস্ক চুল থেকে মুক্তি পাবেন।

কোঁকড়ানো চুল বজায় রাখা (Maintaining curly hair)

কোঁকড়ানো চুল দেখতে খুব ভালো লাগে কিন্তু তা সঠিকভাবে যত্ন করা দরকার। এর জন্য গ্লিসারিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বাতাস থেকে আদ্রতা নিয়ে চুলে প্রদান করে। চুলে আদ্রতা থাকার জন্য আপনি চুলের সাধারণ কোঁকড়ানো ভাব বজায় রাখতে পারবেন।

তেল ও গ্লিসারিন (Oil and glycerin)

আপনার চালের জন্য আপনি যে তেল ব্যবহার করেন তার সাথে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। নারকেল তেল আপনার চুলের জন্য ভালো। এবং আপনি তাতে অল্প গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন যখন আপনি মাথায় ম্যাসেজ করবেন। সারারাত লাগিয়ে রেখে দিন ও পরের দিন শ্যাম্পু দিয়ে স্নান করে ধুয়ে নিন। আপনার শুস্ক চুল থাকলে অলিভ তেল গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।